(ক) বরফের চেয়ে ঠান্ডা পানি বেশি কার্যকর কেন:
বরফ কঠিন বলে ঠান্ডা করার বস্তুর সাথে এর স্পর্শতল খুব কম থাকে (কেবল কয়েকটি বিন্দুতে স্পর্শ)। ঠান্ডা পানি তরল, তাই বস্তুটিকে পুরোপুরি ঘিরে রাখে এবং সব তলে তাপ গ্রহণ করে।
আবার পানিতে পরিচলন স্রোত চলে। উষ্ণ পানি উপরে ওঠে, ঠান্ডা পানি নিচে এসে বস্তুর সংস্পর্শে আসে। ফলে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়।
(খ) পায়ে বেশি শীত অনুভব কেন:
পা হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে, তাই সেখানে রক্ত সঞ্চালন তুলনামূলক কম। কম রক্তে কম তাপ পৌঁছায় বলে পায়ের তাপমাত্রা কমে যায়।
তাছাড়া পা মেঝের সংস্পর্শে থাকে, আর মেঝে সাধারণত তাপের সুপরিবাহী। পা থেকে মেঝেতে সুপরিবহনে দ্রুত তাপ বেরিয়ে যায়। মুখে ঘন রক্তনালিকা থাকায় সেটি তুলনায় উষ্ণ থাকে।
(গ) সূর্যোদয়-সূর্যাস্তে আকাশ লালাভ কেন:
এ সময় সূর্যরশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে অনেক বেশি পথ অতিক্রম করতে হয়। বায়ু-কণা দ্বারা বিক্ষেপণ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক (1/λ4)।
তাই ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল-বেগুনি আলো বেশি বিক্ষিপ্ত হয়ে সরে যায়। বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছায়, তাই আকাশ লালাভ দেখায়।
(ঘ) পুকুরের আপাত গভীরতা কম কেন:
পুকুরের তলদেশ থেকে আসা আলোকরশ্মি পানি থেকে বায়ুতে আসার সময় অভিলম্ব থেকে দূরে বেঁকে যায় (আলোর প্রতিসরণ)। এ কারণে প্রতিসৃত রশ্মিগুলোকে পেছনে বাড়ালে যে বিন্দুতে মেলে, সেটি তলদেশের প্রকৃত অবস্থান থেকে উপরে থাকে।
ফলে আপাত গভীরতা = প্রকৃত গভীরতা/প্রতিসরাঙ্ক, যা প্রকৃত গভীরতার চেয়ে কম।
লক্ষ করো: (ক) অংশে প্রশ্নের বাক্যটি যেভাবে ছাপা আছে সেভাবেই ধরে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। একই ভরের জন্য 0°C-এর বরফ বেশি তাপ শোষণ করে (গলনের সুপ্ততাপ), তবে বাস্তবে স্পর্শতল ও পরিচলনের কারণে ঠান্ডা পানি দ্রুত ঠান্ডা করে।